ঢাকা , বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬ , ৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

​সরকারি খাল ভরাট করে রাস্তা নির্মাণ, জলাবদ্ধতার আশঙ্কা

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট সময় : ২০২৬-০৩-০৩ ১৩:৫৪:০৬
​সরকারি খাল ভরাট করে রাস্তা নির্মাণ, জলাবদ্ধতার আশঙ্কা ​সরকারি খাল ভরাট করে রাস্তা নির্মাণ, জলাবদ্ধতার আশঙ্কা





ওয়ালিদ হাসান নীরব পাবনা প্রতিনিধি:-

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় সরকারি খাল ভরাট করে খামারে যাতায়াতের জন্য রাস্তা ও ইউ ড্রেন নির্মাণ করার অভিযোগ উঠেছে আনসার আলী নামে এক অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।

এর ফলে পাথরঘাটা মৌজার বেড়ের বিল এলাকার প্রায় দেড়শ বিঘা জমিতে পুনরায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এরআগে গত বছর গ্রামবাসীর লিখিত অভিযোগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার আদেশে এ খাল খনন করে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস।

ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার পার-ভাঙ্গুড়া ইউনিয়নের পাথরঘাটা গ্রামে। অভিযুক্ত আনসার উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিসের (অবসরপ্রাপ্ত) নিরীক্ষণ কর্মকর্তা ছিলেন। 

গ্রামবাসী সূত্রে জানা যায়, উপজেলার পাথরঘাটা গ্রামের বেড়ের বিল এলাকা থেকে পাথরঘাটা মাঠ পর্যন্ত প্রায় ৫০০ মিটার সরকারি খাল রয়েছে। এ খালের মুখে একটি অপরিকল্পিত কালভার্ট ছিল। ফলে খালটি ভরাট হয়ে যায়।

এছাড়া আনসার আলী সহ অনেকেই খালের দুই পাশ দিয়ে দখল করায় পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে বছরের অর্ধেক সময় বেড়ের বিল এলাকার প্রায় দেড়শ বিঘা জমি জলাবদ্ধ থাকায় চাষবাস করতে পারেনি কৃষরা।

এতে ২০২৪ সালে গ্রামের অর্ধশত কৃষক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিলে সরেজমিনে তদন্ত করেন তিনি। পরে গত বছর অপরিকল্পিত কালভার্ট ভেঙে নতুন কালভার্ট তৈরি করে খালটি খনন করা হয়। কিন্তু বছর ঘুরতে না ঘুরতেই আনসার আলী আবারও তার খামারে যাতায়াতের জন্য প্রায় ২৫ ফুট প্রশস্ত খালের মুখে ভরাট করে রাস্তা নির্মাণ করছেন। আর পানি প্রবাহের জন্য তিনি রাস্তার মাঝখানে চার ফুট  ইউ ড্রেন তৈরি করছেন।

তবে এই ইউ ড্রেন পানি প্রবাহের জন্য যথেষ্ট নয় বলে জানান এলাকাবাসী। 

উল্লেখ্য, আনসার আলী চার বছর আগে এই স্থানে খামারে যাতায়াতের জন্য প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের মাধ্যমে একটি সেতু পাস করিয়াছিলেন। পরে ব্যক্তিগত খামারে যাতায়াতের জন্য সরকারি টাকার সেতু নির্মাণ প্রকল্প বাতিল করে পার্শ্ববর্তী রাস্তায় সে সেতু  নির্মাণ প্রকল্প স্থানান্তর করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।

অভিযোগের বিষয়ে সাবেক সরকারি কর্মকর্তা আনসার আলী বলেন, “সরকারি জায়গা অন্যরা ভরাট করেছে, আমি নই। আমার নিজস্ব সম্পত্তি উপজেলা থেকে মাপ দিয়ে সীমানা নির্ধারণ করে গেছে। আমি আমার জায়গায় কাজ করতেছি। আমি একজন সচেতন মানুষ হয়ে সরকারি জায়গায় কিভাবে কাজ করব। এটা তো ঠিক হবে না।”  

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মিজানুর রহমান বলেন, “এই খাল রক্ষা ও পানি নিষ্কাশনের বিষয়ে পূর্বে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ব্যবস্থা নিয়েছিলেন। তাই এখন ইউএনও স্যার নির্দেশনা দিলে আমি ব্যবস্থা নিতে পারব।”

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাপস পালের সরকারি নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

নিউজটি আপডেট করেছেন : [email protected]

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ